সোনার ক্যারেট, হলমার্ক ও ভরি-গ্রামের হিসাব: কেনার আগে যা জানা জরুরি

প্রকাশিত: · হালনাগাদ:

সোনা কিনতে গেলে “ক্যারেট কত”, “হলমার্ক আছে কিনা”, বা “এক ভরিতে কত গ্রাম” — এই প্রশ্নগুলো প্রায় সবারসোনার ক্যারেটই মনে আসে। শব্দগুলো পরিচিত হলেও এর প্রকৃত অর্থ অনেকের কাছেই অস্পষ্ট থেকে যায়। এই লেখায় বিষয়গুলো সহজভাবে ভেঙে বলা হলো।

ক্যারেট আসলে কী বোঝায়

খনি থেকে তোলা খাঁটি সোনা এত নরম যে তা দিয়ে সরাসরি গহনা তৈরি করা যায় না। তাই টেকসই করতে এর সাথে তামা, রুপা বা দস্তার মতো অন্য ধাতু মেশানো হয় — একেই বলে “খাদ”। যত বেশি খাদ মেশানো হয়, সোনার বিশুদ্ধতা তত কমে, আর ক্যারেটও তত নিচে নামে।

হলমার্কের সংখ্যাগুলোর অর্থ কী

হলমার্ক হলো গহনার গায়ে খোদাই করা একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা, যা সোনার বিশুদ্ধতা নির্দেশ করে — খাঁটি সোনা চেনার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি এটি। প্রতিটি ক্যারেটের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা ব্যবহৃত হয়:

ক্যারেটহলমার্ক সংখ্যা
২৪ ক্যারেট৯৯৯.৯
২২ ক্যারেট৯১৬
২১ ক্যারেট৮৭৫
১৮ ক্যারেট৭৫০

গহনা কেনার সময় দোকানদার যে ক্যারেটের কথা বলছেন, গহনার গায়ে খোদাই করা সংখ্যাটি সেই ক্যারেটের হলমার্ক সংখ্যার সাথে মিলছে কিনা যাচাই করে নেওয়া ভালো।

একটি বাস্তবতা মাথায় রাখা দরকার — বাংলাদেশে হলমার্ক করা সোনা বিক্রি নিয়মের মধ্যে থাকলেও অনেক জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান এখনো তা পুরোপুরি মেনে চলে না। তাই শুধু বিক্রেতার কথায় ভরসা না করে হলমার্ক সিলটি নিজে দেখে নেওয়াই নিরাপদ। বাজুস বর্তমানে একটি অনলাইন যাচাই ব্যবস্থা চালুর কাজ করছে, যেখানে একটি কোডের মাধ্যমে মোবাইল অ্যাপ দিয়ে গহনাটি কোন দোকান থেকে কেনা, কত ক্যারেট এবং আসল কিনা যাচাই করা যাবে।

আসল-নকল যাচাইয়ের প্রচলিত কিছু পদ্ধতি

নাইট্রিক এসিড টেস্ট, চুম্বক পরীক্ষা, পানির পরীক্ষা বা সিরামিক প্লেট টেস্টের মতো কিছু প্রচলিত পদ্ধতি সোনা যাচাইয়ে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে এসিড টেস্ট বিপজ্জনক রাসায়নিক নিয়ে কাজ করে বলে ঘরে বসে নিজে চেষ্টা না করে, প্রয়োজনে BSTI-স্বীকৃত ল্যাব বা বিশ্বস্ত জুয়েলারির মাধ্যমে যাচাই করানোই নিরাপদ পথ।

আরেকটি সতর্কতার বিষয় হলো “কেডিএম সোনা” — নরম সোনাকে গহনার উপযোগী করতে এতে ক্যাডমিয়াম নামের ধাতু মেশানো হতো। ক্যাডমিয়াম কারিগর ও ব্যবহারকারী উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় বর্তমানে সোনায় ক্যাডমিয়াম মেশানো নিষিদ্ধ। গহনা কেনার সময় এটি “কেডিএম” কিনা জিজ্ঞেস করে নেওয়াও একটি ভালো অভ্যাস।

ভরি, আনা, রতি ও গ্রাম — কোনটার সাথে কোনটার সম্পর্ক

বাংলাদেশে সোনার লেনদেনে ভরি, আনা ও রতি শব্দগুলো ব্রিটিশ আমল থেকে প্রচলিত, কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে সোনার ওজন মাপা হয় ট্রয় আউন্স ও গ্রামে। তাই দুই এককের মধ্যে হিসাব মেলাতে অনেকেই বিভ্রান্ত হন। মূল সম্পর্কগুলো এরকম:

মজার বিষয় হলো, বাজুস প্রতিদিন যে দাম ঘোষণা করে তা মূলত গ্রাম এককেই হিসাব করা হয় — ভরির দামটি সেখান থেকে কনভার্ট করে দেখানো হয়, শুধু ক্রেতাদের পরিচিত এককে বোঝার সুবিধার জন্য। নতুন প্রজন্মের ব্যবসায়ীরা মূলত গ্রামেই কেনাবেচার হিসাব রাখেন, কারণ এটিই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড।

এই কারণেই bdrates.com-এর গোল্ড প্রাইস টেবিলে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতি গ্রাম ও প্রতি ভরি — দুটো এককেই দাম দেখানো হয়, যাতে যে এককে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন সেটিতেই মিলিয়ে দেখতে পারেন।

কেনার আগে সংক্ষেপে যা মনে রাখবেন


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

২২ ক্যারেট আর ২১ ক্যারেট সোনার মধ্যে পার্থক্য কী?
২২ ক্যারেট প্রায় ৯১.৬৭% খাঁটি, আর ২১ ক্যারেট প্রায় ৮৭.৫% খাঁটি — ২১ ক্যারেট তুলনামূলক বেশি মজবুত ও টেকসই।

হলমার্ক না থাকলে কী করব?
বিশ্বস্ত ও নিবন্ধিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা এবং প্রয়োজনে BSTI-স্বীকৃত ল্যাবে যাচাই করানোই সবচেয়ে নিরাপদ।

এক ভরি সোনা কত গ্রাম?
১ ভরি সমান ১১.৬৬ গ্রাম।

আজকের সোনার দাম ও যাকাত ক্যালকুলেটর
সোনার দাম দেখুন · যাকাত হিসাব করুন · ডলার রেট